ওপেকভুক্ত দেশগুলোয় জ্বালানি তেল উত্তোলন কমেছে

ওপেকভুক্ত দেশগুলোয় জানুয়ারিতে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমেছে।

ওপেকভুক্ত দেশগুলোয় জানুয়ারিতে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমেছে। সম্প্রতি এক জরিপ চালিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

জরিপ অনুযায়ী, পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন জানুয়ারিতে দৈনিক গড়ে ২ কোটি ৬৫ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছে, যা ডিসেম্বরের সংশোধিত পরিসংখ্যানের তুলনায় ৫০ হাজার ব্যারেল কম। এ সময় উত্তোলন কমার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে নাইজেরিয়া ও ইরান।

উল্লেখ্য, ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপ এলএসইজি ও কেপলারের মতো জ্বালানি তেলের আমদানি রফতানির তথ্য প্রদান করে এমন কোম্পানি থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জরিপ চালিয়েছে রয়টার্স। এছাড়া বার্তা সংস্থাটি জ্বালানি তেল কোম্পানি ও ওপেক প্লাস সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র এবং অন্যান্য বিশ্লেষকের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করেছে।

জরিপ থেকে জানা গেছে, নাইজেরিয়ায় জানুয়ারিতে অপরিশোধিত জ্বালানি উত্তোলন দৈনিক গড়ে ৬০ হাজার ব্যারেল কমেছে। দেশটি থেকে সম্প্রতি রফতানিও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। যদিও এ সময় ডাঙ্গোটে পরিশোধন কেন্দ্রে জ্বালানি তেলের উত্তোলন বাড়ায় অভ্যন্তরীণ ব্যবহার ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

ওপেকভুক্ত দেশগুলোয় জ্বালানি তেল উত্তোলনে ইরানের উল্লেখযোগ্য হিস্যা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দেশটিতে গত বছর উত্তোলন ২০২১ সালের পর সর্বোচ্চে পৌঁছেছিল। তবে জরিপে জানানো হয়েছে, গত মাসে তা দৈনিক গড়ে ৬০ হাজার ব্যারেল কমেছে। বিশ্লেষকদের দেয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সামনের দিনগুলোয় নিষেধাজ্ঞা আরো কঠোর করতে পারে। তাই শিগগিরই দেশটির উত্তোলন আরো কমবে।

এছাড়া ওপেকের অন্যতম দুই শীর্ষ সৌদি আরব ও ইরাকেও গত মাসে জ্বালানি তেল উত্তোলন কিছুটা কমেছে।

এদিকে ডিসেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে রক্ষণাবেক্ষণের কারণে কিছু জ্বালানি তেল উত্তোলন ক্ষেত্র বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। একটি সূত্র জানিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণের আংশিক কাজ জানুয়ারিতেও চলমান ছিল। তবে বেশিরভাগ উত্তোলনে পুনরুদ্ধার ঘটেছে। ফলে এ সময় ইউএইর মোট জ্বালানি তেল উত্তোলন বেড়েছে দৈনিক গড়ে ৯০ হাজার ব্যারেল।

যদিও রয়টার্সের জারিপে দেখানো হয়েছে, ইউএই ও ইরাক তাদের বেঁধে দেয়া কোটার তুলনায় জ্বালানি তেল উত্তোলন কমিয়েছে। তবে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির মতো সংগঠনগুলো বলছে, তারা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উত্তোলন বাড়িয়েছে।

জরিপ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ মীমাংসার পর লিবিয়ায় জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ছে। গত মাসে তা দৈনিক গড়ে ৪০ হাজার ব্যারেল বেড়েছে।

ওপেক ও রাশিয়াসহ অন্যান্য সহযোগী দেশ নিয়ে গঠিত ওপেক প্লাস। সংগঠনটি তাদের উত্তোলন কমানোর পরিকল্পনা মার্চের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৈশ্বিক চাহিদা নিয়ে উদ্বেগ ও ওপেক প্লাসবহির্ভূত দেশগুলোয় উত্তোলন বাড়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা এপ্রিল থেকে উত্তোলন বাড়াবে।

আরও